artk
৮ কার্তিক ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সোমবার ২৩ অক্টোবর ২০১৭, ১০:৫০ অপরাহ্ন

শিরোনাম

ক্ষুব্ধ বিএনপি, কপাল পুড়লো তৈমুরের

রফিক রাফি | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ২১২১ ঘণ্টা, মঙ্গলবার ২২ নভেম্বর ২০১৬ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ১৯৫৯ ঘণ্টা, বৃহস্পতিবার ২৪ নভেম্বর ২০১৬


ক্ষুব্ধ বিএনপি, কপাল পুড়লো তৈমুরের - বিশেষ সংবাদ

ঢাকা: আওয়ামী লীগের আমলে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। যে কোনো মূল্যে তারা নারায়ণগঞ্জে মনোনীত মেয়র প্রার্থীকে জেতাবে। তাই নিশ্চিত পরাজয় জেনে ‘টাকা খরচ করে’ নির্বাচন করতে চাননি তৈমুর আলম খন্দকার। তার এই না চাওয়ার কারণে বিএনপি ক্ষুব্ধ হয়েছে। বিশেষ করে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চাওয়াকে মূল্য না দেয়ায় তৈমুরের কপাল পুড়েছে বলে অনেকে মনে করছেন। কারণ এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আগামী সংসদ নির্বাচনে তিনি দলের মনোনয়ন নাও পেতে পারেন।

সূত্র বলছে, দল থেকে খরচের যোগান দিলে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতেন।

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর আলম খন্দকার। বিএনপির নতুন কমিটিতে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হলেও তিনি পদত্যাগ করেন। কারণ তিনি স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাব বজায় রাখতে চেয়েছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল নারায়ণগঞ্জ সিটির মেয়র হওয়া। কিন্তু তার অনাগ্রহের কারণে নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন জেলার সহসভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান।

গত নাসিক নির্বাচনে মেয়র পদে বিএনপি তৈমুর আলম খন্দকারকে সমর্থন দিলেও ভোটের আগের রাতে সরে দাঁড়াতে বলা হয়। দলের ওই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিভিন্ন সময়ে মনোকষ্টের কথাও বলেছেন তিনি।
তবে এবার খালেদা জিয়া তাকে প্রার্থী হিসেবে চাইলেও অনাগ্রহ দেখান তৈমুর। তাই বাধ্য হয়ে অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রার্থী নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও সাত খুনের মামলায় বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয় বিএনপি।
বর্তমান মেয়র আইভী ২০১১ সালের নির্বাচনে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় অনেক নেতার বিরোধিতার মধ্যে নাগরিক সমাজের প্রার্থী হয়েছিলেন। নির্বাচনে তিনি হারিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের আরেক প্রভাবশালী নেতা শামীম ওসমানকে। সাখাওয়াতকে এবারের নির্বাচনে লড়তে হবে বর্তমান মেয়র ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভীর সঙ্গে।

চেয়ারপারসন চাইলেও প্রার্থী হতে অনাগ্রহ দেখানোয় তৈমুরকে নিয়ে দলের ভেতরে চলছে নানা আলোচনা সমালোচনা। ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন নেতারা।

নাসিক নির্বাচনের প্রার্থী চূড়ান্ত করতে শুক্রবার রাতে বৈঠক করেন খালেদা জিয়া। বৈঠক শেষে তৈমুর আলম খন্দকার গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, “ম্যাডামের ইচ্ছা আমি যেন প্রার্থী হই। আমি পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেছি, এবার ক্ষমা চাই। নির্বাচন করতে চাই না আমি। দল যাকে দেবে তার পক্ষে আমি কাজ করব।”

এবার প্রার্থী হতে অনাগ্রহের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আগেরবার ভোটের আগের রাতে বাধ‌্য হয়ে আমাকে নির্বাচন বর্জন করতে হয়েছে। আমি জানি না আমি ভোটে নেই, সবাই জানে ভোট বর্জন করেছি। এটা কীভাবে হয়? এরকম আর হোক তা চাই না। এবার বলেছি- নির্বাচন করব না। তবে ম্যাডামের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।”

পরে প্রার্থী চূড়ান্ত করতে সোমবার আবারো স্থানীয় নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেন খালেদা। এই বৈঠকেও প্রার্থী চূড়ান্ত না হলে মঙ্গলবার সকালে সাখাওয়াতকে মনোনয়ন দেয়ার কথা জানায় বিএনপি।

সূত্র বলছে, চেয়ারপারসনসহ সবার পছন্দের প্রার্থী ছিলেন তৈমুর। তৈমুর প্রার্থী হলে আর নির্বাচন সুষ্ঠু হলে নাসিকে আইভির সঙ্গে লড়াই করে ফলাফল বিএনপির ঘরে আনতে পারতেন তৈমুর। গতবার পরিস্থিতির কারণে একটা সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। সেটাকে বড় করে দেখা যুক্তিযুক্ত নয়। তার এই সিদ্ধান্তের কারণে বিএনপি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সূত্র বলছে, অনেকটা নিমরাজী ছিলেন তৈমুর। তিনি প্রার্থী না হওয়ার মূল অজুহাত দেখিয়েছেন ‘অর্থ সংকট’। এরপর বলেছেন, প্রার্থী হতে চান না, কিন্তু চেয়ারপারসন সিদ্ধান্ত দিলে তিনি মেনে নেবেন। এর মানে হচ্ছে। আমার কাছে টাকা নাই, কিন্তু চেয়ারপারসন যেন বলেন, নির্বাচন করো টাকার ব্যবস্থা হবে। এমন কিছু চাইছিলেন তিনি। কারণ তিনি মনে করেছেন নারায়ণগঞ্জে দলে তার কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। টাকার যোগান দিয়ে হলেও বিএনপি তাকে প্রার্থী করবে, এমন আত্মবিশ্বাস ছিল।

সূত্র জানায়, এটা তার ভুল সিদ্ধান্ত। খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে যে কারো জন্য রাজনীতি করা কঠিন। পথকে নিজেই কঠিন করেছেন। এ কারণে আগামী জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন নাও পেতে পারেন। অন্যদিকে তার কারণে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান জনপ্রিয় হওয়ার সুযোগ পেয়ে গেলেন।

গুঞ্জন আছে, সেলিনা হায়াৎ আইভি নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার জন্য তাকে ৩ কোটি টাকা অফার করেছেন। এছাড়া শামীম ওসমানের সঙ্গে রাজনীতির বাইরে তার সিনিয়র জুনিয়র ভাই সম্পর্ক। একই কলেজে পড়তেন তারা। শামীম ওসমানও তার সরে দাঁড়ানোর পেছনে কাজ করেছেন।

বিএনপির একাধিক সিনিয়র নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ম্যাডামের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে তৈমুর অনেক বড় ভুল করেছেন। তার খেসারত তাকে দিতে হবে। যেমনটা দিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সাবেক সভাপতি ও রেড ক্রিসেন্টের সাবেক চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ।
রশিদের ভুলের কারণে তিনি নিজে কোণঠাসা আর জেলা সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খালেদ মাহবুব শ্যামল এখন চেয়ারপারসনের আস্থাভাজন।

ঘনিষ্ঠজনদের কাছে তৈমুর বলেছেন, কেন নির্বাচন করবো? আমাকে জবাই দেয়া হয়েছে আগের নির্বাচনে। ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। আর এই নির্বাচন করে কী হবে? আওয়ামী লীগের অধীনে কোনো নির্বাচন কি সুষ্ঠু হবে? তারা জয় ছিনিয়ে নেবেই। বেহুদা খরচের টাকা আমি কোথায় পাব? নিশ্চিত পরাজয় জেনে কেউ কি নির্বাচনে প্রার্থী হয়?

নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা বলছেন, আইভির মতো হেভিওয়েট প্রার্থীর সঙ্গে সাখাওয়াতের মতো প্রার্থী কতটা টেক্কা দিতে পারে তা নিয়ে প্রশ্ন আছে।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য তৈমুর আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে মিটিংয়ে আছি বলে ফোন কেটে দেন।

উল্লেখ্য, নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি সাখাওয়াত নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল‌্যকর সাত খুনের ঘটনায় নিহত আইনজীবী চন্দন সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পালের পক্ষে মামলা লড়ার কারণে গত দুই বছরে পরিচিতি পেয়েছেন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/আরআর/এজে

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য