artk
৩ কার্তিক ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, বৃহস্পতিবার ১৯ অক্টোবর ২০১৭, ৪:১৭ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম

সাকা-কাশেম-গোলাম আযমের ছেলেরা কোথায়?

সিনিয়র রিপোর্টার | নিউজবাংলাদেশ.কম
প্রকাশ: ২০১১ ঘণ্টা, বৃহস্পতিবার ১৩ অক্টোবর ২০১৬ || সর্বশেষ সম্পাদনা: ০৮৫৮ ঘণ্টা, শুক্রবার ১৪ অক্টোবর ২০১৬


সাকা-কাশেম-গোলাম আযমের ছেলেরা কোথায়? - জাতীয়

ঢাকা: মানবতাবিরোধী অপরাধে শাস্তি পাওয়া বিএনপি ও জামায়াতের তিন নেতার তিন সন্তান কোথায় আছেন তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের তুলে নিয়ে গেছে। অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা তাদের বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক’ ওই তিন নেতার তিন সন্তানকে ছেড়ে দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে। আর যদি তারা কোনো অপরাধ করে থাকেন, তাহলে আইনের আওতায় আনার কথাও বলেছে।

এইচআরডব্লিউ বিবৃতিতে বলছে, নির্ভরযোগ্য প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষ ওই তিনজনকে আটক করেছে।

এ বিবৃতির পর বৃহস্পতিবার বিকেলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল নিউজবাংলাদেশকে বলেন, “এইচআরডব্লিউ কোন তথ্যের ভিত্তিতে এমনটি বলেছে তা আমি জানি না। তারাই ভালো বলতে পারবে।”

তিনি আরো বলেন, “যাদের কথা বলা হয়েছে তারা কেউ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে নেই। থাকলে আমি অবগত থাকতাম।”

এইচআরডব্লিউর বিবৃতি আরো বলা হয়, মানবতাবিরোধী অপরাধে বিচার হওয়া তিনজন বিরোধী নেতার ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী, মীর আহমাদ বিন কাশেম এবং আমান আযমীকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই আটক করা হয়েছে। তাদের আইন মোতাবেক ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হয়নি এবং পরিবার কিংবা আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থাও করা হয়নি।

তিনজনের মধ্যে হুম্মাম কাদের চৌধুরী সরাসরি রাজনীতিতে জড়িত, বিন কাশেম একজন আইনজীবী এবং আযমী একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা।

সাকা চৌধুরীর ফাঁসির রায় ঘোষণার আগেই রায় ফাঁস করার ঘটনায় সাকার স্ত্রী, ছেলে ও আইনজীবী ফখরুল ইসলামের বিরুদ্ধে করা মামলার আইনজীবী চৌধুরী মো. গালীব রাগীব জানিয়েছেন, সাকা চৌধুরীর স্ত্রী ফারহাত কাদের চৌধুরী ও ছেলে হুম্মাম বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) তথ্য-প্রযুক্তি আইনের মামলায় হাজিরা দিতে আদালতে যান। কিন্তু গাড়ি থেকে নামার পরপরই ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত ভবনের নিচ থেকে ‘ডিবি পুলিশ পরিচয়ে’ হুম্মামকে নিয়ে যাওয়া হয়।

এদিকে, মীর কাশেমের ছেলে আহমেদ বিন কাশেমের পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ৯ আগস্ট (মঙ্গলবার) রাত ১১টার দিকে সাদা পোশাকে অস্ত্রধারী কয়েকজন ব্যক্তি বিন কাশেমকে মিরপুর ডিওএইচএসের বাসা থেকে ধরে নিয়ে যায়।

বিন কাশেমের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার বলেন, “গত ৪ আগস্ট কয়েকজন র‍্যাব সদস্য এসে তাকে সঙ্গে যেতে বলেছিলেন, কিন্তু পরে তারা বিন কাশেমকে না নিয়েই চলে যান। কিন্তু মঙ্গলবার রাতে যারা এসেছিলেন তাদের পরনে কোনো ইউনিফর্ম ছিল না।”

অপরদিকে, গোলাম আযমের ছেলে আবদুল্লাহিল আমান আযমীকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আটক করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার।

গত ২৩ আগস্ট রাত ১১টার দিকে তাকে আটক করা হয় বলে দাবি করছে পরিবার।

এ বিষয়ে গোলাম আযমের বাড়ির কেয়ারটেকার আযাদ বলেন, “রাত ৯টার দিকে গোয়েন্দা পুলিশ এসে আমার কাছে জানতে চায় আব্দুল্লাহিল কোথায়। আমি কিছু জানি না বলাতে তারা আমাকে বেধড়ক পেটায়। গলির ভেতর মাইক্রোবাসে করে ৩০ জনের মতো গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এসেছিল। পরে তারা রাত ১১টার দিকে তাকে (আবদুল্লাহিল আমান আযমী) আটক করে নিয়ে যায়।”

আমান আযমীর আটকের বিষয়ে গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে রমনা জোনের ডিসি মারুফ হোসেন সরদার ওই সময় জানিয়েছিলেন, পুলিশ অভিযান চালায়নি। অন্য কেউ অভিযান চালিয়েছে কিনা তা তিনি জানেন না।

প্রসঙ্গত, হুম্মাম কাদের চৌধুরীর বাবা বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও বিন কাশেমের বাবা জামায়াত নেতা মীর কাশেমের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে আইনি প্রক্রিয়ায়। আর ট্রাইব্যুনালে আমৃত্যু কারাদণ্ড পাওয়া গোলাম আযম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) প্রিজন সেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মৃত্যুর সময় তার মামলাটি আপিলের পর্যায়ে ছিল।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসএ/এনএসআর/এসডি

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত