১১ চৈত্র ১৪২৩ বঙ্গাব্দ, রোববার ২৬ মার্চ ২০১৭, ৩:৪৫ পূর্বাহ্ণ
শিরোনাম

একালের লালন সেকালে...

মাজহারুল কবির শয়ন |
প্রকাশ: ২২১২ ঘণ্টা, সোমবার ০২ নভেম্বর ২০১৫


একালের লালন সেকালে... - পাঠকের লেখা

লালন শাহ সম্পর্কে বিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে কোন মানুষ যা-ই লিখতেন তার আগে ক্ষমা চেয়ে নিতেন এই বলে যে, লালন সম্পর্কে কোন তথ্য পাওয়া দুষ্কর। তার একটি কারণ হল- বিংশ শতাব্দীর সেইসব লেখকরা লালনের কর্ম অপেক্ষা জন্ম নিয়ে বেশি গবেষণা করায় মনোযোগী ছিলেন। কিন্তু সত্যিকার অর্থে লালন নিজে তার জন্মের পরিচয় কখনো দেননি এমনকি তার অনুসারীদেরও কখনো লালনের জন্ম পরিচয় সম্পর্কে বলতে শোনা যায়নি। আবার তার অনুসারীরা লালনের জন্ম সম্পর্কে কোন প্রশ্নের উত্তরে সরাসরি জানেন না বলেননি বরং সচেতনভাবে এড়িয়ে গিয়েছেন। স্বভাবতই লেখকরা লালনের জন্ম সম্পর্কে অনুসন্ধানে আগ্রহী হন এবং ভিন্ন ভিন্ন উত্তর খুঁজে বের করেন এবং উত্তর অনুযায়ী তাদের কেউ কেউ লালনের ধর্ম ঠিক করে দেয়ার প্রচেষ্টা চালান।

কারো মতে লালনের জন্ম কুষ্টিয়ায়। কারো মতে তার জন্ম ঝিনাইদহে। তার সম্পর্কে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে প্রকাশিত তথ্য হল, ছোটবেলায় তীর্থ যাত্রায় বসন্তে আক্রান্ত হলে, তার সঙ্গী সাথীরা মতান্তরে তার নিজের মা তাকে মৃত ভেবে নদীতে ভাসিয়ে দেন। সেখান থেকে মলম শাহ (লালনের পালক পিতা) এবং তার স্ত্রী মুন্নুজান তাকে উদ্ধার করে সেবাপূর্বক সুস্থ করে তোলেন। গুটি বসন্তের কারণে লালনের এক চোখ অন্ধ ছিল। পরবর্তীতে সিরাজ সাঁই নামক এক সাধকের সংস্পর্শে লালন ফারসি এবং আররি ভাষায় কিছু ইসলামিক জ্ঞান লাভ করেন। কবি জসিম উদ্দিন লালনের নিজের লেখা আরবি-ফার্সি লিপি সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু লালন হিন্দু ঘরে জন্ম নিয়ে হিন্দু কিংবা সিরাজ সাইয়ের কাছ থেকে কোরআন শিখে মুসলমান হয়েছেন, এই তথ্য কিউ দিতে পারে না। লালনের জন্ম-পরিচয় গবেষণা করা ইতিবাচক দিক। কিন্তু পরবর্তীতে কেউ তাকে নিজেদের স্বার্থে মুসলমান, কেউ হিন্দু, কেউ ধর্মহীন প্রমাণে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। এই প্রসঙ্গে লালন নিজেই বলেছেন-

“সব লোকে কয় লালন কি জাত সংসারে।
লালন বলে জাতের কি রূপ
দেখলাম না এই নজরে।।”

বিংশ শতাব্দী থেকে কিছুক্ষণের জন্য একবিংশ শতাব্দীতে ফিরে আসি। একবিংশ শতাব্দীর লোকেদের কাছে লালনের পরিচয় চুলে ঝুঁটি বাঁধা দাঁড়িওয়ালা একজন বাউল সাধক, যার মাজার সারা বাংলাদেশের বাউল-সন্ন্যাসীদের তীর্থ স্থান। এর কারণ হতে পারে লালনের যে ছবি আমরা দেখি সেটি কিংবা লালন সম্পর্কে যেসব চলচিত্র নির্মিত হয়েছে সেসব। কারণ এগুলো আমাদের মস্তিষ্কে লালনের একধরণের চিত্র বিনির্মাণ করেছে। কিন্তু আমাদের অনেকেই জানি না চুলে ঝুঁটি বাঁধা স্নিগ্ধ, কোমল, সন্নাসি, তাত্ত্বিক, খানিক বিপ্লবী লালনের যে প্রতিকৃতি আমাদের মনে গেঁথে আছে সেই ছবিটি কল্পনা দিয়ে লালনের মৃত্যুর ২৬ বছর পরে এঁকেছেন নন্দলাল বসু। লালনের জীবদ্দশায় ১১৫ তম বছরে তার একমাত্র চিত্র এঁকেছিলেন রবীন্দ্রনাথের ভাই জোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর। যে চিত্র সম্পর্কে বলা হয়ে থাকে সেটিতে লালনের মুখয়ভব সম্পূর্ণভাবে উঠে আসেনি। তাই নন্দলাল বসুর কাল্পনিক চিত্রই আমাদের কাছে লালন। যে ছবি লালন কবি হলেও তাকে বাউল-কবির পরিচয় দিতে বাধ্য, সাধক হলেও মরমী সাধক, সমাজ সংস্কারক হলেও বাউল-সংস্কারক, ধর্ম প্রচারক হলেও বাউল-দার্শনিক এবং শান্ত বাউল হলেও ক্ষ্যাপা গায়ক করে তোলে।

আমাদের কাছে লালনের আরেকটি পরিচয় আছে যেটি সেটি সুনীল গঙ্গোপাধ্যয়ের ‘মনের মানুষ’ উপন্যাসের লালন। যেখানে লালনের জাত ঠিক করে দেওয়া হয়েছে, নাম দেওয়া হয়েছে ‘লালন চন্দ্র কর’। যদিও সুনীল বার বার দাবি করেছেন তার ঐতিহাসিক উপন্যাসে ঐতিহাসিক উপকরণ আছে কমই এবং সরাসরি বলেছেন “লালন ফকিরের প্রকৃত ঐতিহাসিক তথ্যভিত্তিক জীবনকাহিনী হিসেবে একেবারেই গণ্য করা যাবে না। কারণ তার জীবনের ইতিহাস ও তথ্য খুব সামান্যই পাওয়া যায়”। তারপরেও আমাদের কাছে মনের মানুষের লালন চরিত্রই ‘আসল লালন’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। আমরা কেউ কেউ ধরেই নেই লালন মানে ‘লালন চন্দ্র কর।’ আবার কেউ কেউ যারা মনের মানুষ সিনেমায় হাসন রাজার খাজা মইনুদ্দিন চিশতির ধর্মীয় স্তুতি গান শুনে তারা ধরে নেয় লালন হল মুসলমান, তার ধর্ম ইসলাম। এয়ারপোর্টের মোড়ের লালনের ভাস্কর্য হয়ে দাঁড়ায় অসাম্প্রদায়িক বাউল লালন। তাইতো লালন মাজারে কাউকে হিন্দু রীতিতে প্রণাম করতে দেখা যায়, আবার কেউ মুসলমান পীরের মাজার হিসেবে মোনাজাত ধরে, আবার কারো কাছে আধ্যাত্মিক সাধক হিসেবে লালন দেখা দেয়। আধুনিক তরুণেরা সুর-স্রষ্টা, সাধক হিসেবে লালন কে গণ্য করে তার তিরোধান উৎসবে ভিড় জমায়।

এই তিরোধান উৎসবই বর্তমানে লালনের জনপ্রিয়তাকে বাড়িয়ে তুলেছে। এই উৎসব যেটি কিনা কিছুদিন আগেও ছিল বাউলদের একান্ত নিজস্ব ব্যাপার, আধুনিক মিডিয়া আর পুঁজিবাদের কল্যাণে সেটি এখন সব বয়স সব কালের মানুষদের কাছে সমান জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এই জনপ্রিয়তা শুধু যে লালনের কারণে হয়েছে তা কিন্তু নয়। সেখানে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো বিনিয়োগ করছে, মেলা হচ্ছে, বড় বড় ব্যবসায়ীরা আসছে। তার উপরে শহুরে মানুষদের কাছে এটি একটি বাড়তি উৎসব হিসেবে ধরা দিয়েছে। এর পিছনে আরও সামাজিক-ঐতিহাসিক ভিত্তি আছে। সেই প্রসঙ্গে বলতে হয় বাউল গান বাঙালি সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। সন্ন্যাসী বাউল আর গৃহী বাউল এই দুই ধরণের বাউলই আমাদের একেবারে লৌকিক সংস্কৃতির পরিচায়ক। সারা বাংলাদেশের এই বাউলদের মিলিত হওয়ার প্ল্যাটফর্মই হল আমাদের লালন উৎসব। তাই লালন উৎসব শুধু মাত্র লালন ফকিরদের মিলনমেলা নয় এই মিলন মেলা ভাওাইয়া, মুর্শিদি, লালন, জারি, সারি, ভাটিয়ালিসহ বাংলাদেশের সব প্রান্তের সব বাউলদের। যে প্ল্যাটফর্মে সীমান্ত ডিঙ্গিয়ে ওপারের বাংলাভাষী বাউলেরাও এসে যোগ দেয়। তাই লালনের তিরোধান উৎসবকে খোলা চোখে সরলীকরণের সুযোগ নেই।

প্রসঙ্গক্রমে আসা তিরোধান উৎসবের বর্ণনার মাঝে, আবার আগের আলোচনায় ফিরে যাই। লালন আসলে কে ছিলেন? কি তার পরিচয়? এই প্রশ্নের উত্তরে আবারও পূর্বের কথায় ফিরে যাওয়া যাক- তার সম্পর্কে খুব কমই জানা যায়। তবে তার মধ্যে বৈষ্ণব ধর্মের সহজিয়া প্রভাব ছিল। বৈষ্ণব ধর্মের প্রবর্তক শ্রীচৈতন্যদেব এবং তার দুই অনুসারী শ্রী নিত্যানন্দ এবং অদ্বৈত আচার্যকে নিয়ে রচিত একটি গান হলো-

তিন পাগলে হৈল মেলা নদে এসে
তোরা কেউ যাসনে ও পাগলের কাছে।
...........................................
পাগলের নামটি এমন
বলিতে ফকির লালন ভয় তরাসে
চৈতে নিতে অদ্বৈয় পাগল নাম ধরেছে।
তোরা কেউ যাসনে ও পাগলের কাছে।

তার গানে ইসলাম ধর্মের প্রভাব ছিল। ইসলাম ধর্ম নিয়ে রচিত আরেকটি গান হলো-

হায়াতুল মুরসালিন বলে
কুরআনেতে লিখা দেখি।
সিরাজ সাঁই কয় অবোধ লালন
রাসুল চিনলে আখের পাবি।।

এরকম ইসলাম ধর্ম নিয়ে লালনের শত গান রয়েছে। লালনের গানে বৌদ্ধ ধর্মের সহজ মতবাদের মিল অনেক। লালনকে হিন্দু-মুসলমান করার সরলীকরণ দেখলে মনে হয় এদেশে বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী তাত্ত্বিকরা শক্তিশালী হলে হয়তো তাদের কেউ কেউ লালনকে বৌদ্ধ প্রমাণ করতেন। কিন্তু লালন মুসলমান হলেও শুধু মুসলমান না, হিন্দু হলেও শুধু হিন্দু না, বৌদ্ধ হলেও শুধু বৌদ্ধ না। এই পর্যায়ে এসে একটি বিষয়ে একমত হতে পাড়ি, লালন যেহেতু ঈশ্বর-পরজীবনে বিশ্বাসী ছিলেন অর্থাৎ লালনকে ধর্মহীন বলার কোন সুযোগ নেই। তার গানে ঘুরে-ফিরে অনেক জায়গায় একেশ্বরবাদীতার কথাই উঠে এসেছে।

লালনের ধর্ম প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথ বলেন,
“লালন ফকির নামে একজন বাউল সাধক হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, জৈন ধর্মের সমন্বয় করে কী যেন একটা বলতে চেয়েছেন- আমাদের সবারই সেদিকে মনোযোগ দেওয়া উচিৎ।”

মন্টু শাহ নামে আরেকজন লালন গবেষক আবার বলেছেন এহেদনিয়াত নামে লালন নতুন একটি ধর্ম প্রচার করেছেন। কিন্তু মন্টু শাহের কথার এই পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আবার লালনের ধর্ম সম্ভবনা খারিজ হয়ে যায় লালনের নিজের কথায়-

এমন সমাজ কবে গো সৃজন হবে।
যেদিন হিন্দু মুসলমান বৌদ্ধ খ্রিস্টান
জাতি গোত্র নাহি রবে।

তাহলে লালন আসলে কে ছিলেন? লালন মূলত ছিলেন আত্মার সাধক। আত্মার মুক্তির মাধ্যমেই মানব-মুক্তির কথা বলেছেন। এই আত্মা বাইরের অশুভ আত্মা নয়। নিজের ভিতরের আত্মা। তিনি বলেছেন আত্মার পরিশুদ্ধির মাঝেই ঈশ্বরকে পাওয়া সম্ভব। লালনের কাছে দেহ হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দেহ ভিন্ন লালনের কাছে আর কোন তীর্থ ছিলনা। তার কাছে দেহই মন্দির, দেহই মসজিদ। এই দেহই লালনের মতে পূর্ব জন্ম-পরের জন্ম ঠিক করে দেয়। লালনের মতে দেহই পরমাত্মার সাথে মিলন ঘটায় মানুষের আর এটি সম্ভব শুধুমাত্র আত্মা শুদ্ধির মাধ্যমে।

লালন নিজে ধর্ম জাতের পক্ষে ছিলেন না। তার অনুসারীদের ও তার সাধনার ভার সঠিকভাবে বয়ে নিতে দেখা যায়নি। আর ধর্ম সৃষ্টি হয় একমাত্র অনুসারীদের দ্বারা। তাই লালন কথন শেষ পর্যন্ত লালন ধর্ম নয় বরং লালন দর্শন হিসেবেই প্রকাশিত হয়েছে।

এই লালন দর্শন দ্বারা যুগে যুগে অনেক কবি-দার্শনিক আকর্ষিত হয়েছেন। বলা বাহুল্য এখানে আকর্ষিত হওয়া আর সম্পূর্ণ গ্রহণ করা এক নয়। যেমন লালন সম্পর্কে আমরা সাধারনে যেসব তথ্য জানি সেসব বেশিরভাগের উৎস লালনের মৃত্যুর ১৫ দিন পর প্রকাশিত মীর মশারফ হোসেন সম্পাদিত হিতকরি পত্রিকা। লালন সব গান যে সংরক্ষিত হয়েছে তা নয়। তবে তার অনেক গানই সংরক্ষিত হয়েছে। জনশ্রুতি মতে লালন এক হাজার গানের স্রষ্টা।

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ লালনের কিছু গান সংরক্ষন করেছেন, যেসব তার বিভিন্ন লেখনিতেও ব্যবহৃত হয়েছে। আমেরিকার কবি এলান গিন্সবার্গ লালন দর্শনে প্রভাবিত হয়ে লেখেন “আফটার লালন” নামে কবিতা। শওকত ওসমান লিখেছেন ছোট গল্প “দুই মুসাফির।” লালন দ্বারা অনুপ্রাণিত কবি-সাহিত্যিকের অভাব নেই।

মানুষের এই এই অনুপ্রাণিত হওয়া লালনকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছে। একটি লালনের “অসাম্প্রাদায়িক সঙ্গীত” আরেকটি “লালন জীবন দর্শন”। যার যেটি ইচ্ছে সে সেটি গ্রহণ করেছে। আমাদের দেশে লালনের ধর্মীয় পরিচয়ের পর তার “অসাম্প্রাদায়িক সঙ্গীত সাধক” এর পরিচায়ক রূপই সবচেয়ে বেশি গ্রহণ করা হয়েছে। লালন দর্শন গ্রহণ করেছেন গুটি কয়েক মানুষ এবং নির্দিষ্ট কিছু বাউল। যে যেটিই গ্রহণ করুক না কেন, লালন যা লালনকে সেভাবে প্রকাশ করা উচিত। লালনের উপর জোরপূর্বক হিন্দু, বৌদ্ধ, মুসলমান ট্যাগ নয় লালন যা তাই হওয়া উচিত লালনের পরিচয়।

পরিশেষে, যে লালন উনবিংশ শতাব্দীতে বিচ্ছিন্ন কুষ্টিয়ার ছেঁউরিয়ায় আধ্যাত্মিক সাধক হয়ে উঠেছিলেন। যে লালনের চিন্তার জন্য বাংলায় রেনেসাঁ, এনলাইটেনমেণ্টের প্রয়োজন হয়নি। যে লালন বেঁচে থাকলে ধর্মের ভিত্তিতে দেশ ভাগের বিরোধিতা করতেন। যে লালন মানুষের আত্মার পরিশুদ্ধির কথা বলেছেন। সেই উনবিংশ শতাব্দীর লালন একবিংশ শতাব্দীর বাঙালিদের চেয়ে এখনো বিস্ময়করভাবে যোজন যোজন এগিয়ে! তিনি অনেক আগেই বলে গিয়েছেন-

জাত গেল জাত গেল বলে
একি আজব কারখানা
সত্য কাজে কেউ নয় রাজি
সবি দেখি তা না-না-না।।

লেখক: শিক্ষার্থী, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

নিউজবাংলাদেশ.কমে প্রকাশিত যে কোনও প্রতিবেদন, ছবি, লেখা, রেখাচিত্র, ভিডিও-অডিও ক্লিপ অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার করা কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয়।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত